খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

অভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এনসিসি গঠনে মত দেওয়ার আহ্বান নাহিদের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ৩:৪৮ পিএম
অভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এনসিসি গঠনে মত দেওয়ার আহ্বান নাহিদের

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোকে মত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

 

বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাহিদ বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল এনসিসি গঠনের বিপক্ষে মতামত দিয়েছে। আমরা মনে করি যারা এনসিসি গঠনের বিপক্ষে, তারা মূলত একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যেই থেকে যেতে চান।

তিনি জানান, এনসিপি শুরু থেকেই এনসিসি গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে গঠনের কাঠামো ও প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু গঠনমূলক মতভেদ রয়েছে।

 

বিশেষ করে— রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে এনসিসির বাইরে রাখার পক্ষে মত দেন তিনি। আবার, এনসিসির অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা না রাখার পক্ষেও তিনি অবস্থান নেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাহী বিভাগের অসম ক্ষমতা হ্রাস করতেই আমাদের নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। এনসিসি গঠন হবে সেই ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি আরও বলেন, এনসিসি গঠনের বিরোধিতাকারী দলগুলোকে কেবল না বলার চেয়ে বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

এ সময় নাহিদ ইসলাম দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন থাকার পরও বিগত ১৬ বছরে তারা জনগণের পক্ষে কোনো কথা বলেনি। একইভাবে একটি দল ও ব্যক্তির আজ্ঞাবহে পরিণত হওয়ায়, দুদক ও নির্বাচন কমিশনও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩২ এএম
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গণভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে তিনি জাদুঘরে পৌঁছান এবং জাদুঘরে থাকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্রগুলো ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা।

 

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

 

গুমের শিকার পরিবারেরগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা তুলি ও গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

 

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যান্যরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহিদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া, শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সংরক্ষিত রয়েছে সেখানে।

 

জাদুঘরে পরিদর্শনে ড. ইউনূস ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

 

 

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই জাদুঘর জুলাই শহিদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা চাইনা ভবিষ্যতে কোথাও যেন আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয় তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।’

 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে।’

 

আরও পড়ুন: বিপুল অর্থ খরচ করে স্বপ্নভঙ্গ, নারীসহ ৩৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

 

তিনি আরও বলেন, ‘আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারে কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল! এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না।’

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ ছাত্র ও জনতার বীরত্বও তুলে ধরেন ড. মোহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে, এটাই আমাদের শিক্ষা।’

 

এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘অল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে, এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলেমেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকর হয়ে থাকবে এই জাদুঘর।’ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ডিসকোর্স-শিক্ষা-গবেষণায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

মধ্যরাতে ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরের পোস্ট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ এএম
মধ্যরাতে ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরের পোস্ট

মধ্যরাতে ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন তিনি।

 

পোস্টে জামায়াত আমির লিখেন, ঢাকা-১৫ আসনে ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করার সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করতে চাই, শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

এর আগে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন পীরেরবাগের আল মোবারক মসজিদের সামনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার লিফলেট বিতরণকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

মিরপুর বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর উভয় রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে এসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

জোটের ২৩ ও উন্মুক্ত ৬ আসনে নির্বাচন করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৩ এএম
জোটের ২৩ ও উন্মুক্ত ৬ আসনে নির্বাচন করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ২৯ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এর মধ্যে ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের ২৩ আসনে এবং উন্মুক্ত ভিত্তিতে জোটের অন্য দলের সঙ্গে ছয় আসনে নির্বাচন করবে দলটি।

 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানিয়েছে, ‘১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’র সমঝোতার আলাপের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিকশা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোট ২৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

 

এর মধ্যে ২৩টি সংসদীয় আসনে ‘দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র আওতায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্য ছয় আসনে জোটের অন্য দলের প্রার্থীর সঙ্গে উন্মুক্ত ভিত্তিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

 

এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিস, মৌলভীবাজার-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি, ফেনী-২ আসনে এবি পার্টি এবং ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে উন্মুক্ত ভিত্তিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।