‘১১ লাখ টাকা ঘুষ নিল, কিন্তু বিএনপির সভাপতি পদ দিল না’
মেহেরপুরে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন এক বিএনপি নেতা।
মেহেরপুর প্রেস ক্লাবে শুক্রবার রাত ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী আছিফুল হক মজনু।
মজনু লিখিত অভিযোগে বলেন, “ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ পাইয়ে দিতে দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ আমার কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়েছেন। প্রথমে সাত লাখ টাকা নেন। পরে তিন লাখ এবং আরও এক লাখ টাকা নেন। লেনদেনের সাক্ষীও রয়েছে।
“কথা ছিল, ফয়েজ মোহাম্মদ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আমাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা দেবেন। কিন্তু ২৯ নভেম্বর অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে মনোহরপুর গ্রামের জাফর উল্লাহকে সভাপতি করে কোনো নির্বাচন ছাড়াই ফেইসবুকের মাধ্যমে অবৈধ একটি কমিটি ঘোষণা করেন।”
মজনু বলেন, “ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা সুপার ফাইভ কাউকেই না ডেকে বিতর্কিত এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহম্মদ বলেন, “টাকা-পয়সা লেনদেন করে কমিটি গঠনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। যদি এটা কেউ প্রমাণ করতে পারে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।
“আছিফুল মজনু ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ছিল। এরকম আরও তিন প্রার্থী ছিল। আছিফুল কুষ্টিয়ার আওয়ামী লীগের এক এমপির জামাই। সেই ছবিও আছে। তাছাড়া নারী কেলেঙ্কারি, অন্যের জমি দখলসহ অপরাধমূলক বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে আছিফুলের বিরুদ্ধে। সে কারণেই তাকে সভাপতি করা সম্ভব হয়নি।”
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, “এই ঘটনাটা আমার মনে হয় না সত্য। কারণ, এটা সত্য হলে আমি আগেই জানতে পারতাম। কমিটিতে স্থান না পেয়ে তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
“কমিটি গঠন নিয়ে কোনো আপত্তি অভিযোগ থাকলে তারা জেলা কমিটিকে না জানিয়ে সাংবাদিকদের বলবেন কেন? এটা করে তারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।”




আপনার মতামত লিখুন
Array