খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

নষ্ট হচ্ছে চাষের জমি, ফলন কমছে দিন দিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
নষ্ট হচ্ছে চাষের জমি, ফলন কমছে দিন দিন

“চাহিদা থাকায় মাঠে থাকা অবস্থাতেই প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকার মুলা বিক্রিও করেছিলাম। পরে ক্রেতাকে সে দাম আবার ফেরত দিতে হয়েছে। শুধু এক মাঠেই আমার সাড়ে ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

 

শুধু মো. সুজনের জমি নয়, বরং ‘নীরব ঘাতকের’ মতো বাড়ছে অ্যাসিড বা অম্ল মান বাড়ছে কুমিল্লাসহ চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষি জমিতেও।

 

এর মধ্যে কুমিল্লা জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে অ্যাসিডের ক্ষতিকর পরিমাণ বেড়েছে, তার মধ্যে চার উপজেলার শতভাগ জমি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানালেন কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।

 

তিনি বলেন, কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলা, লাকসাম, বরুড়া ও লালমাই উপজেলার প্রায় শতভাগ জমিতে অ্যাসিডের পরিমাণ বিপদজনক হারে বেড়েছে। পুরো জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি এই রোগে আক্রান্ত। যে কারণে বেশি খরচ করে ফসলের চাষ করেও আশানুরূপ উৎপাদন পাচ্ছেন না কৃষকরা।

 

তবে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ছে তার জন্য কৃষকের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, জৈব সারের ব্যবহার ছাড়া একই জমিতে একাধিক মৌসুমের ফলন করতে গিয়ে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে এই দশার সৃষ্টি হয়েছে।

 

মাটি ও সার গবেষকরা বলছেন, আবাদি জমিতে পিএইচ বা পটেনশিয়াল হাইড্রোজেনের মান ৫ দশমিক ৫ এর নিচে নেমে আসা আশানুরূপ ফলন উৎপাদনের জন্য শঙ্কার বিষয়।

 

তারা বলছেন, অ্যাসিড বা অম্ল মান বেড়ে গেলে সার দিলেও মাটি থেকে গাছ পুষ্টি সংগ্রহ করতে পারে না। আর এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

 

গত মৌসুমে কুমিল্লায় এক লাখ ৯৪ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে চার লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৫ টন আমন ধান এবং ৫৬ হাজার ২৪৭ টন সবজি উৎপাদন হয়েছে। যদি মাটির গুণাগুন ঠিক না থাকে তাহলে এ বছর উৎপাদনের পরিমাণ কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

 

কুমিল্লা জেলার মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের ৯৩ শতাংশ মাটিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের অন্তত ৪৭ শতাংশ মাটিতে অ্যাসিডের মান বেড়ে গেছে। এই অঞ্চলটিতে ৯৭ শতাংশ মাটিতে নাইট্রোজেনের ঘাটতি, ৮৬ শতাংশ মাটিতে ফসফরাসের ঘাটতি, ৮৯ শতাংশ মাটিতে পটাসিয়ামের ঘাটতি এবং ৬৬ শতাংশ মাটিতে সালফারের ঘাটতি রয়েছে।”

 

তিনি বলেন, “এই তিন জেলার ১৮ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে খুবই শক্তিশালীভাবে অ্যাসিডের উপস্থিতি দেখা গেছে। এ ছাড়া দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে পিএইচ এর মান ৪ দশমিক ৫ ছুঁয়েছে। অর্থাৎ এসব জমিতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়।”

 

সদর উপজেলার আমতলী গোমতীর চরের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা আসলেই বুঝি না। এত সার দেই, এত পরিচর্যা তাও কেন ফসল পাই না। আমাদের এই জমিগুলোতে এক বছরে একাধিক ফলন হয়। হঠাৎ যদি ফলন না হয় তাহলে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।”

 

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান বলেন, “আমরা কৃষকদের মাটি পরীক্ষার জন্য বলছি এবং আমরাও মাটি পরীক্ষার জন্য মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। কৃষকদের মাটি পরীক্ষার পর মাটিতে নিয়ম মেনে সার ব্যবহারের পরামর্শ দেই আমরা।”

 

সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুনায়েদ কবির খান বলেন, “দীর্ঘদিন কৃষি জমিতে একটানা রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে এই অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এজন্য আমরা খুব সহজ একটি উপায় কৃষকদের বলে থাকি। যে, আপনারা জমি চাষের পূর্বে ডলোচুন ব্যবহার করুন।”

 

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “কৃষক যদি আশানুরূপ ফলন না পায় তাহলে তাদের যেমন ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি হয়। কিন্তু এর একটি বিশাল প্রভাব আমাদের খাদ্য মজুদেও পড়বে।

 

“আমরা যদি খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করতে পারি তাহলে তা আমাদের স্থানীয় অভাব মেটানোও সম্ভব হবে না।”

 

মিজানুর রহমান বলেন, “তিন বছরে একবার ডলোচুন বা গোড়া চুন ব্যবহার করলে ভাল। এতে সারেরও গুণাগুণ বাড়বে এবং মাটিতে সারের গুণাগুণ বাড়বে।

 

“এ ছাড়া সালফার জাতীয় সারের যদি আধিক্য বাড়ায় তাতেও কিন্তু সালফার আয়ন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের আধিক্য বাড়ে। যার কারণে এই এসিডিটি কমে আসবে।”

 

তবে জৈব সার প্রয়োগে জোর দিয়ে তিনি বলেন, জৈব সার মাটির প্রাণ। জৈব সার যদি না পাওয়া যায়, মাটিতে যদি উপকারী অণুজীব না থাকে- সে ক্ষেত্রে মাটি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসা কঠিন।”

 

“অন্যদিকে আমাদের মাটির টপ সয়েল বা উপরিভাগও বাঁচাতে হবে। তাহলে কৃষক বাঁচবে। না হয় ফলন কমে- জাতীয়ভাবে আমরা ক্ষতির মুখোমুখি হবো।”

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সিংড়ায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১

নাটোর, করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩২ এএম
সিংড়ায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

 

 

দলীয় দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী হামলায় চাইনিজ কুড়ালের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন বিএনপি নেতা আবু রায়হান (৪৫)। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সিংড়া উপজেলার তাজপুর গ্রামীণ সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আবু রায়হান উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং হিজলি গ্রামের প্রয়াত অফিজ উদ্দিনের ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের চেম্বারে রাজনৈতিক আলোচনা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আবু রায়হান। পথে তাজপুর এলাকায় যুবদল নেতা সোহানুর রহমান সোহানসহ একদল যুবক তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আবু রায়হানের দুই পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

 

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবু রায়হান অভিযোগ করে বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সমর্থক সোহান, রমজান, আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছে।”

 

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ বলেন “ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন একজন ত্যাগী নেতাকে নির্মমভাবে কুপিয়েছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে তারা ‘হাইব্রিড’ বিএনপি। আমি অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু সাংবাদিকদের জানান, তিনি এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

 

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শিবলী নোমান জানান, “আহত ব্যক্তির দুই পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাড় ভেঙে গেছে। তাঁর বড় ধরনের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।”

 

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসম আব্দুন নূর জানান, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহিংসতার ঘটনায় পুরো সিংড়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বিশেষ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ড. ইভারস আইজাবস জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কাজ করবে।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

 

 

ড. ইভারস আইজাবস বলেন, আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ডিসেম্বরের শেষ থেকেই বাংলাদেশে কাজ করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যসহ সব মিলিয়ে নির্বাচনের সময় ইইউ’র ২০০ জন পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন।

 

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই সময়ে গণভোট আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন ইইউর প্রধান পর্যবেক্ষক।

 

তিনি বলেন, ‘কমিশন আমাদের জানিয়েছে যে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা তাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। তবে কমিশন বিষয়টি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।’

 

ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান বলেন, ‘আমরা এখানে সাহায্য করতে এসেছি। আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবো। কারণ বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’

 

 

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনটি হবে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন।’

 

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দিল্লি–আগরতলার পর কলকাতা উপ-হাইক‌মিশনে ভিসা সেবা বন্ধ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ এএম
দিল্লি–আগরতলার পর কলকাতা উপ-হাইক‌মিশনে ভিসা সেবা বন্ধ

দিল্লি ও আগরতলার পর এবার ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইক‌মিশনে ভিসা সেবা বন্ধ করেছে বাংলাদেশ।

 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) থেকে কলকাতা উপ-হাইক‌মিশনে ব্যবসায়িক ও কর্মসংস্থান ভিসা ছাড়া অন্য সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হচ্ছে না।

 

কলকাতার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বুধবার থেকেই উপ-হাইক‌মিশনে কনস্যুলার সেবা ও ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়িক ও ওয়ার্ক ভিসা কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

কলকাতা উপ-হাইক‌মিশনের একজন কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যবসায়িক ও কর্মসংস্থান ভিসা ছাড়া সব ধরনের ভিসা সেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাশাপাশি ত্রিপুরার আগরতলায় সহকারী হাইকমিশন এবং শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টার থেকেও ভিসা প্রদান ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ওই সময় জানানো হয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব মিশনে ভিসা ও কনস্যুলার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দিল্লি, আগরতলা ও শিলিগুড়িতে ভিসা কার্যক্রম চালু হয়নি।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক এবং প্রশাসনিক বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের চলাচল, নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ভিসা নীতিতে সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 

ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভারতে বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী বহু ভারতীয় নাগরিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যারা বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ব্যবসায়িক ও কর্মসংস্থান ভিসা চালু থাকায় বাণিজ্যিক ও পেশাগত যোগাযোগ সীমিত আকারে বজায় থাকছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল কনস্যুলার কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসা সেবা ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। আপাতত কলকাতাসহ ভারতের একাধিক শহরে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এর প্রভাব দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যাতায়াতে স্পষ্টভাবে পড়ছে।